প্রধান শিক্ষকের মারে কানের পর্দা ফেটে গেছে ছাত্রের

নিজস্ব সংবাদদাতা, আর এন বিঃ ছাত্র নিগ্রহে নয়া মোড় নিলো পাঁচলা থানার
জুজারসাহা পি এন মান্না ইনস্টিটিউশানের ঘটনা।
ডি এম অফিস হাওড়া সূত্রে খবর গত14 তারিখ রুদ্রনীল ঘোষ নামে একটি ছেলে স্কুলে টুপি পরে আসার অপরাধে জুজারসাহা পি এন মান্না ইনস্টিটিউশানের প্রধান শিক্ষক সেখ আক্তার আলি – র হাতে নিগৃহীত হয়। উলুবেড়িয়া হসপিটালের ই এন টি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের রিপোর্ট অনুসারে ছেলেটির কানের পর্দা ফেটে গেছে। এবং ছেলেটির বাবা লাল্টু ঘোষ পেশায় শিক্ষক ঐ স্যারের নামে পাঁচলা থানায় এফ আই আর করেন।
তারই প্রেক্ষিতে গত 16তারিখ পাঁচলা থানা ডি এম অফিসে ছেলেটির জবানবন্দি রেকর্ড করান।তারপর থেকেই ঘটনা অন্যরকম। লাল্টু বাবু জানান, প্রধান শিক্ষক সেখ আক্তার আলি একজন শান্ত মস্তিষ্কের শয়তান। কানের পর্দা ফাটিয়ে দিয়েও ছেলেকে সকাল সাড়ে এগারোটা থেকে সাড়ে তিনটে পর্যন্ত গেটের সামনে কান ধরে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন। টিফিন তো দূরের কথা জল পর্যন্ত খেতে দেয়নি। এমনকি কানে লাগছে বলায় ক্ষেপে ক্ষেপে উপর্যুপুরি মেরেছেন। এবং একপ্রকার কানে লাগছে না বলতে বাধ্য করান।
শেষে চারটে নাগাদ বাড়িতে ফোন করে ছেলের দুষ্টুমির কথা শুনিয়ে গার্জেনকে স্কুলে ডেকে পাঠান। কিন্তু শিক্ষক পিতা স্কুল ছেড়ে আসতে না পারায় ছেলের মা এলে, তাকে ঐ প্রধান শিক্ষক ছেলেটির মাকে গেটের বাইরে বের করে দিয়ে চাবি দিয়ে দেয়। পরে ছেলেটির বাবা এলে ছেলেকে দেখায় এবং হরি মালা পরে ছেলে মিথ্যে আচরণ করছে বলে ছেলেকে শোধরানোর পরামর্শে ব্যাঙ্গ করেন।
করপোরাল পানিশমেন্টের জন্য অনুশোচনাতো দূরের কথা তরপর থেকেই স্কুলের কয়েকজন ঘটনাটিকে সাজানো অতিরঞ্জিত এবং ফেক রিপোর্ট আখ্যা দিয়ে ছেলিটি দুষ্টু, ছেলেটি বদমাইশ, ছেলেটি বকে যাওয়া এবং সেই সঙ্গে ইসকন ভক্ত বাবা মায়ের ইসকন অনুসারী হরি মালা পরিয়ে ছেলেকে এ কেমন মানুষ করে তুলছেন বলে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি।
লাল্টুবাবুর বক্তব্য, ডি এম অফিসার ছেলেটির জবান বন্দি নেওয়ার পর নারায়নী হসপিটালের রেফারেন্সে চাইল্ড স্পেশালিস্টের কম্পিউটারাইজড রিপোর্ট যখন উপরের সত্যতা স্বীকার করে নিয়ে জানালেন চপেটাঘাতে কানের পর্দা ফেটে গেছে এবং ঔষুধে দু তিন মাসের মধ্যে যদি পর্দা পুনর্গঠিত না হয় তবে ছেলেটি পার্মানেন্টলি কানের সমস্যায় ভুগবে।
পাঁচলা নর্থ সার্কেলের এস আই সূত্রে জানা গেছে ঐ স্যারকে শো কজ লেটার দিয়েছেন কিন্তু উত্তর এখনো আসেনি। তখন থেকেই পরিবারের উপর নানা ভাবে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এবং নাম প্রকাশে ভীত লাল্টুবাবু জানান যে ছাত্র শিক্ষক সম্পর্ক নষ্ট হওয়া এবং স্কুলের সুনাম নষ্ট হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে এফ আই আর তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে ভয় দেখানো চলছে। এমতবস্থায় স্কুলের সম্মান নাকি ছেলের জীবন?গোটা জীবন বিকলাঙ্গ হয়ে যাবে! দ্বন্ধে রুদ্রের বাবা মা সরকারের দারস্ত হবেন বলে জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!