‘দুঃখিত বাবা’! অনলাইন গেমের নেশায় ১০তলা থেকে ঝাঁপ, সুইসাইড নোটে শেষ বার্তা তিন বোনের, কী কী লেখা

বাবা-মায়ের বাধা এবং বকাঝকার কারণেই চরম সিদ্ধান্ত! উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা সামনে এসেছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে লোনি এলাকার একটি বহুতল আবাসনে ১০ তলা থেকে একসাথে ঝাঁপ দিয়ে তিন নাবালিকার মৃত্যু হয়েছে। তাদের বয়স যথাক্রমে ১২, ১৪ এবং ১৬ বছর। আত্মহত্যার আগেই তিন বোন একটি দীর্ঘ সুইসাইড নোট লিখে গিয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে যে, একটি ছোট ডায়েরিতে মোট আট পাতায় লেখা সেই নোট উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান যে, আত্মহত্যার ঠিক আগেই ওই চিঠি লেখা হয়েছিল। শিরোনামের পাশে মনখারাপের একটি ছোট ইমোজিও আঁকা ছিল। হিন্দি এবং ইংরেজি মিশিয়ে লেখা ওই নোটে তারা তাদের বাবা-মায়ের উদ্দেশ্যে আবেগঘন বার্তা রেখেছিল। সেখানে লেখা, “এই ডায়েরিতে লেখা সবটা পড়ো। এটাই সত্যি। আমরা খুবই দুঃখিত। দুঃখিত বাবা।” বার্তার শেষে আঁকা ছিল কান্নার একটি ইমোজি। “অনলাইন গেম আসক্তি নিয়ে পারিবারিক অশান্তি! বহুতল থেকে একসঙ্গে ঝাঁপ তিন বোনের, তদন্তে পুলিশ” তদন্তে উঠে এসেছে যে, তিন বোন বহুদিন ধরে অনলাইনে একটি কোরিয়ান টাস্ক-বেসড অনলাইন গেমে ভয়ংকরভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছিল। করোনার সময় থেকেই মোবাইল গেমের প্রতি ঝোঁক বাড়ে তাদের। অভিযোগ উঠেছে যে, মাঝেমধ্যেই স্কুলে না গিয়ে গেম খেলায় মেতে উঠত তারা। এই অভ্যাস নিয়ে প্রায় প্রত্যেকদিন বাবা মায়ের সঙ্গে অশান্তি হত। মঙ্গলবার রাতেও সেই একই কারণে বাড়িতে শুরু হয় তুমুল ঝামেলা। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটে যায় এই ভয়ঙ্কর ঘটনা। জানা গিয়েছে যে, গেমের প্রভাব এতটাই ছিল যে তারা নিজেরা নিজেদের মধ্যে কোরিয়ান নামেও কথা বলত। সুইসাইড নোটে সেই আসক্তির ছাপ একেবারে স্পষ্ট। সেখানে লেখা ছিল, “আমরা কোরিয়াকে কোনওদিন ছেড়ে যেতে পারব না। কোরিয়া আমাদের কাছে সবকিছু। আমাদের এটা থেকে কখনই আলাদা করা যাবে না।” এরপরই সেখানে নিজেদের জীবন শেষ করার সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!